- নারী নির্যাতন, বাংলাদেশ

দুই কিশোরীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে দলবেধে ধর্ষণ, সালিশে ধামাচাপার চেষ্টা

সেইভ গালর্স ডেস্ক :: মাদারীপুরের ডাসার থানা এলাকায় দুই কিশোরীকে একটি নির্জন ফ্ল্যাটে দু’দিন আটকে রেখে দলবেধে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনাটি বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোল্লা এবং ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন সালিশের নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে শুক্রবার গভীর রাতে চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের সাদ্রাসা পড়ুয়া সপ্তম ও পঞ্চম শ্রেণির দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মন্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে। এ সময় শাকিব, নয়ন, রবিউল, হৃদয়, আল-আমিন ও তার বন্ধুরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোল্লা সালিশের নামে বখাটের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন এবং দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেন। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জেনে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গেলে সালিশ মীমাংসার কথা অস্বীকার করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন মোল্লা।

ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার স্কুলে যায়। এর পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাদবররা সালিশ মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেননি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছেন এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছেন। তাই মেয়েকে ওর মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।

আরেক কিশোরীর মা বলেন, আপনাদের কাছে কিছু বললে আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেবে।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মেম্বার বলেন, আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এ সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে ৭-৮ জন পালিয়ে যায়। ধারণা করছি, মেয়েদের ইজ্জত হরণ করা হয়েছে।

এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, দেলোয়ার দারোগা ও মতিন মোল্লা বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার নাম করে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন বলে শুনেছি। এ কারণেই মামলা হয়নি।

তবে সালিশ মীমাংসা করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আব্দুল মতিন মোল্লা বলেন, মেয়ে পক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে আমার কাছে এসেছিল। আমি টাকাও নিইনি, মীমাংসাও করিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, আপনারা তো নেগেটিভ কথাই ভালো শোনেন। শুনলে তো কিছু করার নেই। তবে আপনারা আরও তদন্ত করে দেখুন।

মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার বলেন, এ ঘটনা সালিসযোগ্য নয়। তাই মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। যদি কোনো পুলিশের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *