- নারীর অর্জন, সচেতনতা

রোজা ও কষ্টের দিন গুলি

ডা : সাবরিনা আরিফ চৌধুরী :: চৌধুরী সাহেবের সাথে বিবাহের পূর্বে ব্যবসায়ীদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে আমার তেমন ধারনা ছিলনা ! আমার বাবা , দাদা, নানা সকলেই সরকারী চাকুরীজীবী !দেশের বাইরে ও দেশে ফিরে সরকারী কলোনির যে পরিবেশে আমি বড় হয়েছি সেখানে ব্যবসায়ী কেউ নন !!! যাহোক , বিয়ের ২,সপ্তাহের মধ্যেই পহেলা ফাল্গুন ও পরদিন Valentine day ! আমি পুলকিত হৃদয়ে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রাপ্তির স্বপ্নে বিভোর হয়ে রইলাম ! পহেলা ফাল্গুনের ১ দিন আগে চৌধুরী সাহেব আড়ং থেকে পানসে হলুদ এক সূতী শাড়ী এনে বললেন , এটা দিয়ে দুই program চালিয়ে দাও ! তখন বুঝলাম; ব্যবসায়ী কি জিনিষ !!!

আমার বাবার উপার্জন সীমিত হলেও চাকুরী ও বেতনের নিশ্চয়তা ছিল তাই ব্যবসায়ীদের জীবনের উত্থান আর পতনের সাথে পরিচিতি বা প্রস্তুতি কোনটাই আমার ছিলনা ! বিয়ের দু’বছরের মাথায় ব্যাবসায় মন্দা দেখা দিল ! এমনই সময় শুরু হলো রোযা ! সারাদিন class করে বাসার ফিরে ইফতার বানিয়ে খাবার সময় বা ধৈর্য কোনটাই থাকে না ! বেশিরভাগ সময়ই রাস্তার পাশের ২০ টাকার ঘুগনি আর খেজুর দিয়ে ইফতার সারতে হয় ! একদিন class সেরে ফিরছি -জ্যামের কারনে বড্ড দেরী হয়ে গেছে… গুলশান ২,এ প্রবেশ করতে করতেই দেখলাম আযান দিনে মাত্র ৫/৬ মিনিট বাকী !সারি সারি অতি উন্নত খাবারের দোকানের ভীড়ে যেটা অপেক্ষাকৃত সস্তা মনে হলো সেখানে ঢুকলাম! দেখলাম সেখানে পৃথকভাবে কোন item নিয়ে খাবার উপায় নেই … বুফে সিস্টেম ! যে টাকা আমাদের কাছে আছে তাতে একজনের বিল দেয়া সম্ভব ! তখন অনেক ছেলেমানুষী ছিল -টেবিলে বসে-মেনু দেখে খাবার কিনে খেতে না পারলে শুধু হোটেলের লোকের কাছে না ;নিজের কাছেই নিজেকে ছোট মনে হতো! (অথচ এখন দামে না পোষালে অনায়াসে restaurant থেকে বের হয়ে যাই !) চৌধুরী সাহেব আমার মনোভাব বুঝে জোড় করে আমাকে বুফে খাবারের লাইনে দাঁড় করিয়ে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে কলা আর জিলাপী খুঁজে নিলেন ! বাবার বাসার চৌদ্দ পদ দিয়ে ইফতার করা মেয়ের চোখ আর পেটের ক্ষিধের কাছে স্বামীর প্রতি ভালবাসা সেদিন হার মানলো! আমি খেলাম -কারন বড় কষ্টের টাকা ! শুধু খাসীর হালিমের বাটিতে টপটপ করে চোখের পানি পরলো-হালিম চৌধুরী সাহেবের favorite! অতি আশ্চর্যের বিষয় সে বছর কেউ ইফতারে দাওয়াত দিলো না …না কোন বন্ধু , না কোন আত্মীয় !

পরবর্তীতে ও আমাকে ঢাকার অনেক ৫ তারা হোটেলেও ইফতার করিয়েছে কিন্ত সেদিনের কথা কখনও ভুলিনি …! আজও রাস্তার পাশে পলিথিনে ঢাকা তাজা বাসি মেলানো ঘুগনির স্তুপ থেকে ময়লা গামছায় হাত মুছে মামা যে ঘুগনি দেয় তা ২০ টাকার আমি রোজ কিনি !

পুন: তখন Aahmed Nnayaz আর Anusha এর সাথে ঘনিষ্টতা ছিলনা , থাকলে তখনও ৩০ দিনে ২০ টা ইফতারের দাওয়াত থাকতো !!!!

TG Facebook Comments

1 thought on “রোজা ও কষ্টের দিন গুলি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *