- নারী নির্যাতন

মঠবাড়িয়ায় ধর্ষণ মামলার আসামিকে ছেড়ে দিল পুলিশ

ডেস্ক নিউজ :: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি আবুল কাশেমকে গ্রেফতারের সাত ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রোববার বিকেলে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করলেও আতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপনের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এদিকে বরিশালের গৌরনদীতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং পাবনার চাটমোহরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমকালের সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুভাষ ব্যানার্জি সমকালকে বলেন, রোববার দুপুরে মামলা দায়েরের পর বিকেলে আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করি। রাতে আতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন আসামিকে নিয়ে তার অফিসে যেতে বলেন। সেখানে গেলে আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার হাতকড়া খুলে স্থানীয় মোশারফ হোসেন শরীফের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।

জানতে চাইলে আতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, মামলার বাদী তথ্য গোপন করে মামলা করায় আসামিকে ছেড়ে দেই।

অবশ্য মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল্লাহ বলেন, নারী নির্যাতন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের পর এভাবে ছেড়ে দেওয়া এখতিয়ার বহির্ভূত।

এদিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের দক্ষিণ পালরদী গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পবিরার জানায়, রোববার বিকেলে প্রতিবেশী ওই কিশোর খেলার ছলে নিজেদের রান্না ঘরে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই কিশোর পালিয়ে যায়। পরে এলাকায় ঘটনাটি জানাজানি হলে শিশুটির নানা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার জানান, অভিযুক্ত কিশোরকে সোমবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপর ঘটনা পাবনার চাটমোহরে। উপজেলার আনকুটিয়া গ্রামে দেবরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে রোববার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক গৃহবধূ।

অভিযোগে জানা যায়, প্রতিবেশী ও সম্পর্কে দেবর হওয়ায় ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই গৃহবধূকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। গত ২৪ জুলাই গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকা ও শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী থাকার সুযোগে ওই ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ গৃহববূকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে চলে এলে ধর্ষক দ্রুত পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষকের পরিবার থেকে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হয়ে ওই গৃহবধূ চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসীর উদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে তিনি একটু দেরিতে এসে অভিযোগ করেছেন। পুলিশের এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা মিললে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ – সমকাল

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *