- নারী নির্যাতন, সচেতনতা

জোনাকির পতিতা হয়ে উঠা

শাত-ইল রাস ::
ধর্ষিত হওয়ার সূচিপত্র :
(১) পঞ্চম শ্রেণীতে বাড়ির মালিক,
(২) SSC -পরীক্ষার আগে শিক্ষক,
(৩) HSC -পরীক্ষার পর কথিত প্রেমিক ও বন্ধুরা,
(৪) বারবার আপন ভাই।

যারা ভাবছেন পুরো লেখাটার আসল রহস্য প্রথমেই উন্মোচন করে দিলাম। তারা ফিরে যান, সত্যিই এই কাহিনীটা আপনার জন্য না। আর যারা আসল কাহিনীটা জানতে চান- চলুন শুরু করা যাক।

২০ বছর আগে শেষ রাত্রি।
রাত্রিখোলা নদীর তীরে ছোট্ট একটা বস্তিতে জন্ম হয় এক কন্যা শিশুর। অন্ধকারের মধ্যে সামান্য কুপির আলোতেই ঝলমলিয়ে উঠে বলে নাম রাখা হয় জোনাকি। খুবই দরিদ্র পরিবারে জন্ম হয় জোনাকির। বাবা অন্যের মুদি-দোকানে সামান্য কর্মচারী, মা অন্যের বাড়িতে কাজের বুয়া, ভাইটা একটু বড় হওয়ার পরই অন্যের দোকানে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে। অভাবের সংসারে টানাটানি করে বেড়ে উঠতে থাকে জোনাকি। মা যে বাড়িতে কাজ করতো মাঝে মাঝে জোনাকিও যেতো। যখন জোনাকি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে তখন মায়ের অসুস্থতার জন্য বুয়ার কাজ করতে জোনাকি যায়। ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে বাড়ির মালিক জোনাকিকে ধর্ষণ করে। অনেক বেশি ব্যথা আর রক্তক্ষরণ হয় তার। জানোয়ারটা হুমকি দেয় কাউকে বলে দিলে তার মাকে আর কাজে নেবে না, তখন খাবি কি। অবুঝ মনেই ভাত না পাওয়ার কষ্টটা চুপ করিয়ে দেয় জোনাকিকে। কাউকে বলে নাই।

খুব কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যায় জোনাকি। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করতে অনেকগুলো টাকা লাগবে কিন্তু এতো টাকা তাদের নাই। এই সুযোগে এক শিক্ষক তাকে বলে চল আমার সাথে, টাকা দেবো। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা দেওয়ার নামে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করে জোনাকিকে। ঘটনাটা কারোই জানার কথা না, কিন্তু পরে অনেকেই জেনে যায়। স্যার নামের কুত্তাটা বলে দিয়েছিলো। এর পর থেকে রাস্তায় বের হলেই ভদ্র সমাজের মানুষগুলো নানা ধরনের আজেবাজে কথা বলতে থাকে। টাকা দিতে চায় শোয়ার প্রস্তাবে। বাইরে চলাচল এক প্রকার কষ্টই হয়ে যায় জোনাকির জন্য। তবুও এই সব উপেক্ষা করে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সে।

ততদিনে তারা বস্তি ছেড়ে শহরের কাছাকাছি একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছে। আর্থিক টানাটানিতে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। মেয়ে মানুষ বড় হয়েছে মনে প্রেমের উদয় হয়। বিশ্বাস করে একজনের সাথে প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। নির্জনের দেখা করার নামে প্রেমিক এবং তার আরো দুজন বন্ধু মোট তিনটা কুকুর টেনে ছিঁড়ে খায় জোনাকির শরীর। জোনাকিকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে তারা চলে চায়। এই ঘটনাটা জানাজানি হয়ে যায়। মামলাও হয় কিন্তু কোন বিচার পায় না জোনাকিরা। উল্টো খারাপ চরিত্রের সার্টিফিকেট পায় সে। এর পর থেকে আর ঘরের বাইরে যেতে পারে না। মানুষ তাকে এমন এমন কথা বলে যা কোন মানুষের সাথে যায় না। ঘটনাটা এখানেই থেমে যেতে পারতো কিন্তু থেমে যায় নি।

ঘরের ভিতরেই যে তার সব থেকে বড় শত্রু আছে জোনাকির বুঝতে একটু দেরীই হয়েছিলো। নেশাগ্রস্ত বিকৃত মস্তিষ্কের আপন ভাইয়ের কাম লালসার হাত থেকেও রক্ষা পায় নাই জোনাকি। এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা তার কাছে মূল্যহীন হয়ে যায়। এভাবে একের পর এক নিজ ঘরে আপন ভাইয়ের কাছে ধর্ষিত হতে থাকে জোনাকি। বহুদিন এভাবেই চলতে থাকে। এর পর একদিন এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রাতের গভীরে জোনাকি পালিয়ে যায়। কিন্তু যাবে কোথায় সব জায়গায়ই তো ঐ পুরুষ থাকে। কথায় আছে অভাগী যেখানে যায় নদী শুকিয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে এমন কিছু মানুষের সাথে দেখা হয় যারা জোনাকিকে সারা রাত ধর্ষণ করে পরের দিন পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। তখন থেকেই জোনাকি পতিতালয়ের একজন পতিতা।

শাত-ইল রাস, সংস্কৃতিকর্মী, ঢাকা।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *