- বাংলাদেশ

ব্লেড হাতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা, অতঃপর…

ব্লেড হাতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে উপস্থিত হলেন এক প্রেমিকা। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দুইদিন প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানের পর অবশেষে দুই পরিবারের সমঝোতায় মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রেমিকের সঙ্গে ওই প্রেমিকার বিয়ের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের আ. হাই মল্লিকের ছেলে মিলন মল্লিকের সঙ্গে ভেড়ামাড়া সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী সুমিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়। মিলন বিবিএ পাস করার পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের কামারখালী শাখায় চাকরি নেয়। দীর্ঘদিন সুমিকা মিলনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মিলন এড়িয়ে যায়। গত সোমবার বিকেলে বিয়ের দাবিতে বিষের বোতল ও ব্লেড হাতে মিলনের বাড়িতে উপস্থিত হয় সুমিকা।

সুমিকা বলেন, গত দেড় বছর আগে মিলনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এরপর প্রেম। একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলে মিলন দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। মিলন বিবিএ পাস করে ব্যাংকে চাকরি নেয়। এরপর থেকে আমাকে এড়িয়ে চলে।

সুমিকা আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমার বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ দিলে আমি মিলনকে বলি। সে প্রথমে মোবাইল রিসিভ করলেও পরে আর রিসিভ করত না। এরপর কোনো উপায় না পেয়ে মিলনের বাড়িতে এসে হাজির হই। বাড়িতে হাজির হওয়ার পর মিলন ও তার পরিবারের লোকজন আমার বাড়িতে ও আত্মীয়স্বজনকে মোবাইলে ভয়ভীতি দেখায়। আমাকে ফিরে যেতে বলে এবং হুমকি দেয়।

এদিকে, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মিলনের বাড়িতে লোকজন ভিড় করে। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা মঙ্গলবার বিকেলে মিলনের বাড়িতে যায়। সেই সঙ্গে প্রেমিকা সুমিকার কাছে বিস্তারিত ঘটনা শোনেন।

এ সময় সুমিকা তার হাতে থাকা ব্লেড ও বিষের বোতল দেখিয়ে বলেন, মিলনের সঙ্গে বিয়ে না হলে আমি আত্মহত্যা করব। ব্লেড দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করবো। পরে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানান সাংবাদিকরা।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ার ও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠান। সাংবাদিক ও প্রশাসনের তৎপরতায় অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুই পরিবারের সমঝোতায় মিলন ও সুমিকার বিয়ে হয়।

কামারখালী বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিল মণ্ডল বলেন, বিয়ে অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্যরা, ইউপি চেয়ারম্যান, এসিল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *