- নারী নির্যাতন, সীমানা ফেরিয়ে

ঘুম থেকে তুলে গণধর্ষণের পর মন্দিরে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা

কয়েক মাস ধরেই এক নারীকে উত্যক্ত করছিল তার গ্রামের পাঁচজন লোক। কাজের সূত্রে দিনমজুর স্বামী থাকেন অন্য জেলায়। আর সেই সুযোগেই রাতের অন্ধকারে নারীর বাড়িতে ঢুকে তাকে গণধর্ষণ করে ওই পাঁচজন। এর পর তার বাড়ির সামনে একটি মন্দিরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে ওই নারীকে।

শনিবার গভীর রাতে ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা ঘটে।

এরপর গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ৩৫ বছরের ওই নারী দুই সন্তানের জননী। রাজপুরা থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে থাকতেন তিনি। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে ওই মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, শনিবার রাত থেকেই এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই দুর্যোগের রাতেই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে ওই পাঁচজন। এর পর মহিলাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে তার উপর চলে গণধর্ষণ।

রাজপুরা থানার ওসি অরুণ কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার পর ওই পাঁচজন চলে গেলে প্রথমেই স্বামীকে ফোন করার চেষ্টা করেন ওই নারী। তাকে যোগাযোগ করতে না পেরে এর পর নিজের ভাইকেও ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাকেও যোগাযোগ করা যায়নি। অবশেষে এক আত্মীয়কে ফোন করে গোটা ঘটনাটা জানান তিনি। ফোনেই অভিযুক্তদের নাম-পরিচয়ও জানিয়ে দেন।

এর কিছুক্ষণ পর ফের ওই বাড়িতে ফিরে আসে ওই পাঁচজন। এবার ওই মহিলাকে ঘর থেকে টানতে টানতে বার করে এনে কাছেই একটি মন্দিরে নিয়ে যায়। সেখানে মহিলার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার চিৎকার শুনেও গ্রামবাসীরা কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ।

নারীর স্বামীর অভিযোগ, মৃত্যুর আগে পুলিশকে ফোন করারও চেষ্টা করেছিলেন তার স্ত্রী। কিন্তু, কোনও সাহায্যই মেলেনি। গোটা ঘটনায় গ্রামবাসী এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।

এডিজি প্রেম প্রকাশ জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে নেমে ওই মহিলার ফোনকলের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই ওই গ্রামেরই আরম সিংহ, মহাবীর, চরণ সিংহ, গুল্লু এবং কুমারপালের নাম প্রকাশ্যে আসে। এর পর একটি এফআইআর দায়ের করে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ করে খুন, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *