- নারী নির্যাতন

ওসমানী মেডিকেলে ধর্ষণের অভিযোগে চিকিৎসক মাহী আটক

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। আটক চিকিৎসকের নাম মাক্কামে মাহমুদ মাহী। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার মোখলেসুর রহমানের ছেলে এবং ওসমানী মেডিকেলের নাক, কান ও গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক।

রোববার মধ্যরাতে ধর্ষণের ঘটনার পর সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুরে হাসপাতাল থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আটক করে পুলিশ।

ধর্ষিতা কিশোরী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তার অসুস্থ নানির সঙ্গে রাতে হাসপাতালে ছিল। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ভিকটিম কিশোরীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ নানির সঙ্গে হাসপাতালে ছিল ওই কিশোরী। তার নানী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন। রোববার মধ্যরাতে ওই কিশোরী ছাড়া আর কেউ রোগীর সঙ্গে ছিল না। রাতে ফাইল দেখার কথা বলে ডাক্তার মাহী মেয়েটিকে একই ফ্লোরে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। সকালে বাবা-মা হাসপাতালে আসার পর কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা তাদেরকে জানায়।

পরে সোমবার সকাল ৮টার দিকে মেয়ের বাবা-মা ওসমানী মেডিকেলের পরিচালকের কাছে চিকিৎসক মাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর পর হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ ও কিশোরীর স্বজনদের মধ্যে বৈঠক হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ওই বৈঠক চলে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাহীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম মাহবুবুল হক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ওই স্কুলছাত্রীর স্বজনদের এবং ওই চিকিৎসককে নিয়ে বসি। মেয়ের পক্ষ এবং ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মেয়ের পরিবারের আনা অভিযোগ মাহী অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা না হওয়ায় মাহীকে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মেয়েটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সব ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ফুটেজ সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি হবে।

কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাউসার দস্তগীর জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহীকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *