- নারী নির্যাতন, সীমানা ফেরিয়ে

৭ মাসে ২২ জনের ধর্ষণের শিকার এক শিশু!

গত ৭ মাস ধরে গণধর্ষণের শিকার হয়ে আসছিল ১২ বছর বয়সী এক শিশু। এই সময়ে ২২ জন পুরুষ মিলে মেয়েটির ওপর অমানবিক যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল একটি ভবনের দারোয়ান, লিফটম্যান, ইলেকট্রিকমিস্ত্রী, গ্যাসমিস্ত্রী ও মালিসহ বিভিন্ন কর্মচারী।

ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের চেন্নাই শহরে। এ ঘটনায় গত রোববার (১৫ জুলাই) সন্দেহভাজন ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি চার ধর্ষককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। সোমবার (১৬ জুলাই) পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

চেন্নাই শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পুরাসাওয়ালকাম এলাকার এক এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গত ৭ মাস ধরে চলছিল এই অমানবিক নির্যাতন। ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েটিকে ধর্ষণ করার সময় ইনজেকশন দেয়া হতো কিংবা মাদক মেশানো কোমল পানীয় পান করানো হতো। আর এসব ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করেঅ রাখা হতো।

ধর্ষকরা মেয়েটিকে হুমকি দিয়েছিল, ধর্ষণের কথা কাউকে বললে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হবে। ভীত শিশুটি পরিবারের কারো কাছে বলতে পারেনি এসব নির্যাতনের ঘটনা। মাসের পর মাস মুখে বুজে সহ্য করে গেছে অমানবিক নিপীড়ন।

মেয়েটি জানিয়েছে, প্রতিদিন স্কুলভ্যান থেকে নামার পরই তাকে আটকাতো লিফটম্যান রবি কুমার। তারপর কোনো খালি ফ্ল্যাট, ওয়াশরুম, ছাদ বা জিমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতো তাকে। গত শনিবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত এভাবেই চলছিল।

ওইদিনই প্রকাশ্যে আসে এমন নির্যাতনের খবর। সেদিন বাড়িতে বেড়াতে আসা কলেজ পড়ুয়া এক নিকটাত্মীয়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে শিশুটি। ওই আত্মীয় তার বাবা-মাকে পুরো ঘটনা জানালে পরদিনই তারা স্থানীয় এক থানায় অভিযোগ করেন।

গত রোববার মেয়েটি পুলিশকে জানায়, তাকে প্রথম ধর্ষণ করেছিল লিফটম্যান রবি কুমার (৬৬)। তিনদিন পর সে আরো দুইজন লোককে বাইরে থেকে নিয়ে আসে। তারা সবাই মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ধীরে ধীরে ধর্ষকদের দল ভারি হতে থাকে। সব মিলিয়ে ২২ জন মিলে মেয়েটিকে নিয়মিত ভোগ করতে থাকে। ওই আবাসিক ভবনের অনেক ফ্ল্যাট খালি পড়ে থাকায় মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালাতে ধর্ষকদের কোনো সমস্যা হয়নি।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মেয়েটির বাবা দিনের বেশিরভাগ সময় নিজের কাজে বাড়ির বাইরে থাকেন। মা ব্যস্ত থাকেন ঘরের কাজে। মেয়েটির যে রোজ স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হচ্ছে, সেদিকে কারোই নজর দেয়ার সময় মেলেনি। তার মা ভাবতেন, স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে বলে মেয়ের বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ওই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে রোববার কিলপাউক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *