- নারী নির্যাতন

পুলিশি তদন্তে তাসফিয়ার আত্মহত্যা, নারাজি দেবে পরিবার

ডেস্ক নিউজ :: বন্দরনগরীর অভিজাত সানশাইন গ্রামার স্কুলের শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিন আত্মহত্যা করেছেন- তদন্ত শেষে এমন চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা।

আজ রোববার দুপুরে ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার সরকার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তাসফিয়া আমিন আত্মহত্যা করেছেন- এমনটা উল্লেখ করে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ছয় আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে পুলিশের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছেন তাসফিয়া আমিনের মা নাইমা খানম। বিকেলে এনটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে তাসফিয়ার পাথরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গায়ে অনেক দাগ ছিল। আত্মহত্যা করলে তার গায়ে দাগ থাকবে কেন? আমরা পুলিশের প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজি আবেদন জানাব আদালতে। পাশাপাশি মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্যও আবেদন করা হবে।’

গত ১ মে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ১৮ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি উপুড় হয়ে পাথরের উপর পড়া ছিল। অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধারের পর তাসফিয়ার পরিবার তাকে শনাক্ত করে। তাদের বাসা নগরীর ওআর নিজাম রোডে।

এ ঘটনায় পরের দিন ২ মে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে তাসফিয়ার ফেসবুক বন্ধু আদনান মির্জা, সৈকত মিরাজ, আশিক মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম, মো. মোহাইন ও মো. ফিরোজের নাম উল্লেখ করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ১ মে বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাসফিয়া। পরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় তাসফিয়া তার বন্ধুকে নিয়ে আইসক্রিম খায়। পরে তারা দুজনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। পরের দিন তাসফিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় তথ্য জানিয়ে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্ত্তী জানান, চাঞ্চল্যকর মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ আজ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে তাসফিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *