- Bangladesh

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে জাতিসংঘের শরণার্থী কর্মকর্তা জেলহাজতে

ডেস্ক নিউজ :: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বুধবার দুপুরে রাজশাহী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর রহমান তার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। তবে এই মামলার অপর চার আসামির জামিন শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলার এজাহারের বিবরণে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারের মজিবুর রহমানে ছেলে এবিএম সাদিকুর রহমানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে সঙ্গীতা মুনমুন লিপি ওরফে শ্যামলীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এই দম্পতির ৬ বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

বিয়ের কিছুদিন পর সাদিকুর রহমান ইউএনএইচসিআরে একটি ভালো চাকরি পান। ওই সময় থেকেই সাদিকের আচরণ বদলাতে থাকে। পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এর বাইরে মোটা অঙ্কের টাকা যৌতুকের দাবিতে সাদিক স্ত্রী শ্যামলীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। সাদিকের সঙ্গে নির্যাতনে যোগ দেন তার বাবা মজিবুর রহমান, ভাসুর শামসুর রহমানুল শামীম, দুই ননদ যথাক্রমে মোস্তারা বেগম কাকলী ও মোস্তারি আফরোজ শিউলীসহ পরিবারের অন্যরাও।

এদিকে গত ১৬ জুন ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে স্ত্রীর ওপর ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালান সাদিকুর রহমান। সঙ্গে নির্যাতনে যোগ দেন পরিবারের অন্যরা। এক পর্যায়ে শ্যামলীকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এলাকার লোকজন শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করে তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হয়।

অন্যদিকে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ৯ জুলাই শ্যামলী তার স্বামী সাদিক, শ্বশুর মজিবুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন বাগমারা থানার এসআই আশরাফ আলী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হাসিবুল ইসলাম বলেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। দীর্ঘদিন নানা কৌশলে প্রধান আসামি সাদিক আদালতে হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। বর্তমানে সাদিক পরকীয়ায় জড়িত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে শ্যামলী বিচারের আশায় দিন গুনছেন।

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *