- বাংলাদেশ, সচেতনতা

মায়ের পৈশাচিক আনন্দ

ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী :: সম্প্রতি একটা খবর দেখলাম ,সন্তানকে বিমানবন্দরে ফেলে ভুলে প্লেনে উঠে পরেছিলেন মা ! খবরটা দেখে একটা পৈশাচিক আনন্দ অনুভব করলাম !এতদিন ধরে যে অপরাধ বোধে ভুগছিলাম ..যে আমিই পৃথিবীর সবচেয়ে ভুলোমনের মা -তার থেকে আজ আমি মুক্তি পেলাম !ঘটনাটা বলি , আমার কন্যার বয়স তখন আড়াই বছর !ওকে নিয়ে গেছি, বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ! আজাইরা দোকানে দোকানে ঘুরছি ! এমন সময় হঠাৎ দেখলাম মোটাসোটা হাসিখুশি চেহারার এক ভদ্রমহিলা আমার দিকে এগিয়ে আসছেন !চিনতে পেরেছেন ? ওমা , আমি আপনার রুগী, পিত্তথলির পাথর অপারেশন করেছিলেন !

বন্যেরা বনে সুন্দর , রুগীরা চেম্বারে ! শপিং মলে রুগীর সাথে দেখা হলে অস্বস্তিতে পরি ! কোনরকমে পাশ কাটানোর চেষ্টা করি কিন্তু ভদ্রমহিলা নাছোড়বান্দা ! তার নিজের শাড়ীর দোকান তিনতলায় ! একরকম জোড় করেই তার দোকানে শাড়ীর নিউ কালেকশন দেখাতে নিয়ে গেলেন ! নিজের টাকায় শাড়ী আমি কমই কিনি ,কিন্তু একথা মুখ ফুটে কেমনে বলি ! যাই হোক , পাক্কা আধ ঘণ্টা পর তার হাত থেকে মুক্তি পেলাম !নিজের মনেই ঘুরে বেড়াচ্ছি , এমন সময় শুনতে পেলাম মার্কেট থেকে ঘোষণা হচ্ছে , একটা বাচ্চা মেয়ে পাওয়া গিয়েছে, মেয়েটা তার নাম বলতে পারেনা,তাকে ফিরে পেতে যেন সামনের অফিসে যোগাযোগ করা হয়! কার জানি বাচ্চা হারালো … ভাবতে ভাবতে খাবার ফ্লোরের দিকে পা বাড়ালাম … একটু স্যুপ খেয়ে আসি !

এদিকে ফোনটা বেজেই চলেছে … দেখি আব্বা ! আব্বার ফোন ধরলেই একগাদা উপদেশ শুনতে হয় তাই মার্কেটে থাকলে বা friend দের সাথে থাকলে তার ফোন আমি ধরতে চাইনা , তাও কি মনে করে ফোন ধরলাম ! অহনা কই ? আব্বা চিৎকার করে উঠলো! কই মানে ! আরে তাইতো ! ও তো আমার সাথে মার্কেটে ছিল ! আব্বা হুংকার দিয়ে বললেন , নিচতলায় অফিসে আছে ….উনি উপদেশমালা শুরু করার আগেই আমি ফোন রেখে পড়িমরি করে ছুটলাম !

আমি ওঁকে দোকানে ফেলেই চলে গেছি , কে যেন ওঁকে পেয়ে নিচতলার অফিসে রেখে গেছে ! ও কারও নাম বলতে পারে না কিন্তু আমার বুদ্ধিমতী মা ওঁকে আমার বাবার বাসার land phone এর নাম্বার মুখস্থ করিয়েছিলেন ! ওর কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে বাসায় ফোন করে তারা আব্বার সাথে যোগাযোগ করে !

এখন কন্যা বড় হয়ে গেছে-সে আমাকে হাত ধরে রাস্তা পার করায়, খাবার দোকানে খাবারের order দেয় ,আমার dress পছন্দ করে দেয়! সে জানে মা তো এমনই …!!!

TG Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *